চট্টগ্রাম বন্দর এবার সরকারের কাছে প্রণোদনা এবং ঝুঁকিভাতা দাবি করেছেন


দেশব্যাপী লকডাউন ও সাধারণ ছুটিতেও ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। দেশের লাইফলাইনখ্যাত এই বন্দর সচল রাখতে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন ৭ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী। ঝুঁকির কথা চিন্তা করে তারা এবার সরকারের কাছে প্রণোদনা এবং ঝুঁকিভাতা দাবি করেছেন।


১৯ এপ্রিল চট্টগ্রাম বন্দর কর্মচারী পরিষদ (সিবিএ) শ্রমিকদের পক্ষে ৪ দফা দাবি উল্লেখ করে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়াম্যানের কাছে প্রণোদনা দেওয়ার আবেদন করেছেন।


৪ দফা দাবিতে উল্লেখ করা হয়, প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজ করেন বলে কাজের উৎসাহ হিসেবে ঝুঁকিকালীন সময় প্রতি মাসে মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ প্রণোদনা হিসেবে প্রদান করা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয় বলে কাজের প্রনোদনা হিসেবে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত প্রদানের ব্যবস্থা করা, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর মৃত্যু হলে তার ওপর নির্ভরশীল উপযুক্ত একজন ব্যক্তিকে যোগ্যতা অনুসারে বন্দরে তাৎক্ষণিক চাকরী প্রদানের ব্যবস্থা করা এবং প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে ঘোষণা অনুযায়ী বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা ৫ লক্ষ টাকা থেকে ১০ লাখ টাকা মৃত্যুবরণ করলে ৫ গুণ বেশি প্রদানের ঘোষণা বন্দরেও চালু করা।


চট্টগ্রাম বন্দর কর্মচারী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নায়েবুল ইসলাম ফটিক বলেন, সরকার ইতোমধ্যে ব্যাংক কর্মকর্তা, গার্মেন্টস, স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডাক্তার, কর্মীসহ কয়েকটি সেক্টরে প্রণোদনার ঘোষনা দিলেও বন্দরের কর্মচারীরদের এর আওতায় আনা হয়নি। অথচ এই দুর্যোগকালে বন্দরের মেরিন, যান্ত্রিক, ট্রাফিক, সিকিউরিটি, বিদ্যুৎ, হাসপাতালসহ ১৫ বিভাগে কর্মচারীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। আমরা সরকারের কাছে প্রণোদনার দাবি জানাচ্ছি।


চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রণোদনার বিষয়ে বন্দর কর্মচারী পরিষদের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি আবেদন পেয়েছি। এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশনাল সচল রাখা। তাদের ওয়েলফেয়ারের বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।

Previous Post
Next Post
Related Posts